ননি কলেজ শেষ করে ভার্সিটিতে ঢোকে। ছেলেতো কঠিন প্রেমি! ননির পিছে লেগেই থাকে। একদিন ভার্সিটির জীবন শেষে সেই ছেলেটির সাথেই বিয়ে হয় ননির। অবশ্য আমরা যাকে বলি settle marriage. ছেলেটা এতোই ভালোবাসে ননিকে যে মন চেয়ে মন না পেয়ে শেষে বাবা-মাকে দিয়ে প্রস্তাব দেওয়ায়। ননির বাবা-মাও রাজি হয়। অতঃপর বিয়ে।
গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু মাঝের খানিকটা বাকি রয়ে গেছে। যার সাথে ননির বিয়ে হলো সেই ছেলেটিই কি বনি? নাহ। ননির বনি এ নয়। বরং ননি তাকে গল্প বলে বনির। একদিন স্কুল যাবার সময় ননি বায়না ধরেছিলো আইসক্রিম খাওয়ার। বনি সেই আইসক্রিম আনতে রাস্তার ওপাশে রহিম চাচার দোকানে গিয়ে আর আসেনি। কাদামাখা রাস্তায় একটা ছোট ট্রাক স্লিপ করে…
ননি নিজেকে ক্ষমা করতে পারেনি। সেই ছোট্ট মেয়েটা বড় হয়েছে। বিয়ে হয়েছে। তবু সেই ছোট্ট গোলগাল চেহারাটা ভুলতে পারেনা ও। শেষ যেবার দেখেছে সেবার সেই মুখটা বিকৃত হয়ে গেছিলো। কেউ ওকে দোষ দেয়নি, তবুও নিজের কাছেই সে অপরাধী।
অবশেষঃ ননির একটা পুতুলের মতো বাচ্চা হয়েছে। সে তার নাম রেখেছে বনি। বনিকে প্রথম দেখে বুকটা ছ্যাঁত করে উঠেছিলো ননির। এই তো সেই বনি! সেই গোল-গাল লালচে মুখের খেলার সাথী। বনি ফিরে এসেছে ওরই কোলে। ননির অপরাধবোধ কমে যায়। সে পৃথিবীর মাঝে ফিরিয়ে এনেছে বনিকে।






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন